আপনার যদি পেটের আলসার (স্টমাক আলসার বা পেপটিক আলসার) থাকে, তাহলে এমন পানীয় বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা আলসার ভালো হতে সাহায্য করবে এবং পেটের ক্ষতি বাড়াবে না। কিছু পানীয় আছে যা ব্যথা কমায়, প্রদাহ হ্রাস করে এবং ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। যেমন—বাঁধাকপির রস, ভেষজ চা ও প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ পানীয়।
যারা আলসারে ভুগছেন, তারা জানেন কিছু খাবার ও পানীয় খেলেই সমস্যা বেড়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনগুলো উপকার করে? নিচে আলসার রোগীদের জন্য উপকারী কিছু পানীয় নিয়ে সহজভাবে আলোচনা করা হলো।
বাঁধাকপির রস (Cabbage Juice)
বাঁধাকপি একটি পুষ্টিকর সবজি, যাতে আছে ভিটামিন A, ভিটামিন C, ফলেট ও ভিটামিন B6। বাঁধাকপির রস পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে। এতে আলসারের জ্বালা ও ব্যথা কিছুটা কমে এবং ক্ষত সারানোর সময় পায়।
বাংলাদেশে সহজলভ্য হওয়ায় সকালে খালি পেটে অল্প পরিমাণ তাজা বাঁধাকপির রস অনেকেই উপকার পেয়ে থাকেন।
মধুসহ ভেষজ চা (Herbal Tea with Honey)
ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না, তাই এটি আলসারের জন্য নিরাপদ। উপকারী কয়েকটি ভেষজ চা হলো—
ক্যামোমাইল চা: পেটের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
আদা চা: বমি ভাব, গ্যাস ও প্রদাহ কমায়
মানুকা মধু: ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমনে সহায়ক
ক্যালেন্ডুলা চা: ক্ষত সারাতে সাহায্য করে
মনে রাখবেন, মধু ব্যবহার করলে খাঁটি মধু নেওয়াই ভালো।
দই বা দইয়ের পানীয় (Yogurt Drinks)
দইয়ে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক, যা পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটি পেটের প্রদাহ কমায় ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে। টক দই বা ঘোল আলসার রোগীদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।
আদা দিয়ে তৈরি পানীয় (Ginger Drinks)
আদা বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদায় থাকা জিনজেরল উপাদান ব্যথা কমায় ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত আদা খেলে কিছু মানুষের বুকজ্বালা, ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা জরুরি।
কেফির (Kefir)
কেফির হলো এক ধরনের ফারমেন্টেড দুধের পানীয়, দেখতে পাতলা দইয়ের মতো। এতে আছে প্রদাহ কমানোর উপাদান ও প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া।
গবেষণায় দেখা গেছে, কেফির কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। আলসারের কারণে পেটের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্ত স্তরের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
হলুদ চা (Turmeric Tea)
হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন, যা প্রদাহ কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে হালকা হলুদ চা পেটের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো।
আঁশযুক্ত পানীয় (High Fiber Drinks)
আঁশ বা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও ফাঁপা ভাব কমাতে সহায়ক।
আঁশযুক্ত কিছু পানীয় হলো—
- সবুজ স্মুদি
- তাজা বেরির রস
- চিয়া বীজের পানীয় কোন পানীয়গুলো আলসারে ক্ষতিকর?
আলসার থাকলে সাধারণত যেসব পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো :
- অ্যালকোহল
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (কফি, গ্রিন টি, এনার্জি ড্রিংক)
- অতিরিক্ত চিনি দেওয়া সফট ড্রিংক
- টমেটোর রস
- কমলা বা অন্যান্য সাইট্রাস ফলের রস
- চকলেট দুধ
পেটের আলসার হলে শুধু ওষুধ নয়, সঠিক খাবার ও পানীয়ও সুস্থতার বড় অংশ। বাঁধাকপির রস, পর্যাপ্ত পানি, হালকা স্মুদি, আদা বা ভেষজ চা—এসব পানীয় আলসারের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে আলসার দীর্ঘদিন থাকলে বা ব্যথা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র : Health Line
Mytv Online